বৃহস্পতিবার, ২৫ Jun ২০২৬, ০৯:০৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ সুদানে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা, ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত জাপানে জোট সরকার গড়তে রাজি এলডিপি, ইশিন হামাস যুদ্ধ বিরতির লঙ্ঘন ঘটিয়েছে অভিযোগ করে গাজায় ইসরায়েলের হামলা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষের ঢল

দার্জিলিং টি ভবিষ্যতে টিকবে কি

চা শব্দটি শুনেই আমাদের অনেকের মনে উঁকি দেয় একটি জায়গার নাম। সেটি হলো, দার্জিলিং। এই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চা বলতেই আমরা মুখে ফেনা তুলি দার্জিলিংয়ের নামে। সেখানকার চা মানে-গুণেই এই খ্যাতি অর্জন করেছে, তাও পুরো বিশ্বেই। কিন্তু এখন সেই বিখ্যাত চায়ের ভবিষ্যতই পড়ে গেছে শঙ্কায়। বলা হচ্ছে, দার্জিলিংয়ের চা নাকি বিলুপ্তও হয়ে যেতে পারে ভবিষ্যতে!
‘চায়ের শ্যাম্পেইন’ নামে পরিচিত ভারতের দার্জিলিংয়ের চা। স্বাদে ও গন্ধে এই চায়ের খ্যাতি বিশ্বজোড়া। শোনা যায়, প্রয়াত রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের প্রিয় চা ছিল দার্জিলিংয়ের। চা বিশেষজ্ঞরা বলেন, অন্যান্য অঞ্চলের ব্ল্যাক টি-এর তুলনায় দার্জিলিংয়ের ব্ল্যাক টি অপেক্ষাকৃত মিষ্টি এবং কম তিতা। দার্জিলিংয়ের চায়ে হৃদযন্ত্র ভালো থাকে, নিয়ন্ত্রণে থাকে রক্তচাপ। সব চায়েরই এই গুণ আছে, তবে মানে-গুণে অপেক্ষাকৃত ভালো বলে দার্জিলিংয়ের চা এক্ষেত্রে আরও এগিয়ে। দার্জিলিংয়ের চায়ে আছে দুই ধরনের শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যেগুলো ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক। আবার ডায়বেটিস প্রতিরোধেও কার্যকর দার্জিলিংয়ের চা।
এমন বিখ্যাত দার্জিলিং টি-এর ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কা উঠেছে জন্মস্থান ভারতেই। এর পেছনে একদিকে যেমন আছে দার্জিলিংয়ের চা বলে নেপালের চা বিক্রির মতো আঞ্চলিক ইস্যু, অন্যদিকে আছে জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক বিষয়।
দার্জিলিংয়ের বেশির ভাগ চা বাগান গড়ে উঠেছে ১৯ শতকে। তৎকালীন ব্রিটিশ শাসকেরা সেগুলো তৈরি করেছিল মূলত চীনা চায়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে। পরে ১৯৪৭-এর দেশবিভাগের পর এই বাগানগুলো স্থানীয় ভারতীয় ব্যবসায়ী পরিবারগুলোর কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এখন যতই দিন যাচ্ছে দার্জিলিংয়ের চা বাগান এলাকায় নিত্যনতুন সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে চিন্তিত ওই অঞ্চলের চা চাষীরা। এরই মধ্যে দার্জিলিংয়ের চা বাগানের প্রায় অর্ধেকই দেউলিয়া হয়ে গেছে এবং বাকিগুলোও সে পথেই হাঁটছে বলে মনে করেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
সংকট এতটাই তীব্র হয়েছে যে, চা নিয়ন্ত্রক সংস্থা টি বোর্ড অফ ইন্ডিয়া গত নভেম্বর মাসে এই শিল্পের জন্য সরকারের কাছ থেকে ১২০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্যাকেজ পেতে অনুরোধ করেছিল। স্থানীয় সেলিম হিল চা বাগানের মালিক স্পর্শ আগরওয়ালের শঙ্কা, ‘আমাদের এস্টেটগুলো আরও তিন থেকে পাঁচ বছর টিকে থাকবে কিনা, আমরা সত্যিই জানি না। ’

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com